- Advertisement -

জৈব সার: কুইক কম্পোস্ট

জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ বা হৃদপিন্ড।

1,921

- Advertisement -

কুইক কম্পোস্ট

জৈব পদার্থ হলো মাটির প্রাণ বা হৃদপিন্ড। মাটির স্বাস্থ্য ভাল রাখা ও সুস্থ্য সবল জন্য জৈব পদার্থের প্রয়োজন। সাধারণভাবে জৈব পদার্থ হলো গাছপালা ও জীবজন্তুর মৃতদেহ মাটিতে পচে যে পদার্থের সৃষ্টি হয় তাই জৈব পদার্থ। জৈব পদার্থ হতে সংগৃহীত, প্রক্রিয়াজাতকৃত বা রুপান্তরিত সারই হলো জৈব সার। আমাদের দেশে প্রচলিত জৈব সারের মধ্যে কম্পোস্ট সার খুবই জনপ্রিয়। বাংলাদেশে চার ধরনের কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা হয়। যেমন সাধারণ কম্পোস্ট, কুইক কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পোস্ট এবং ট্রাইকো কম্পোস্ট।

কুইক কম্পোস্ট হলো এমন একটি জৈব সার যা স্বল্প সময়ে তৈরী করা যায় এবং এর মধ্যে গাছের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানও বেশী থাকে।

কুইক কম্পোস্ট সারের উপকারিতা

সাধারণ কম্পোস্ট সার তৈরি করতে ২ থেকে ৩ মাস লেগে যায়। কৃষক পর্যায়ে সবসময় সাধারণ কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কুইক কস্পোস্ট সার খুব কম সময়ে এবং সহজ উপায়ে তৈরি করা যায় অর্থ্যাৎ মাত্র ১৪-১৫ দিন সময়েই কুইক কম্পোস্ট সার তৈরি করা যায়। ইহা মাটিতে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান সহজলভ্য করে। মাটিতে থাকা অনুজীবের ক্রিয়াকলাপ বৃদ্ধি করে। গাছের শিকড় ও অঙ্গজ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সবজি ফসলে মালচিংয়ের কাজ করে। সর্বোপরি মাটির উর্বরতা সুরক্ষা করে এবং ফসল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

কৃইক কম্পোস্ট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ ও অনুপাত

পচা গোবর, কাঠের গুড়া এবং খৈল। উপকরণগুলোর মিশ্রণের অনুপাত হবে পচা গোবব : কাঠের গুড়া : খৈল= ৪: ২: ১ ।

কুইক কম্পোস্ট প্রস্তুত প্রণালী

১ ভাগ খৈল ভালভাবে গুঁড়া করে ২ ভাগ কাঠের গুড়া এবং ৪ ভাগ পচা গোবরের সাথে ভাল করে মিশাতে হবে। পরিমিত পরিমাণ পানি এমনভাবে মিশাতে হবে যেন সবগুলো উপাদান খুব ভালোভাবে মিশে। উপাদান ভালোভাবে মিশলে একধরনের খামির ন্যায় তৈরি হয়। ঐ মিশ্রণের খামি দিয়ে এমন করে বল তৈরী করা যায়। বলটি যদি কোমর পরিমান বা ১ মিটার উপর থেকে ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে যদি বলটি একদম ভেঙ্গে না যায় আবার একে বারে লেপ্টে না যায় তাহলে বুঝতে হবে পানির পরিমাণ ঠিক আছে। পরবর্তীতে মিশ্রণটি স্তুপ করে রেখে দিতে হবে।

শীতকালে স্তুপের উপর চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। স্তুপ করার ২৪ ঘন্টা পর হতে মিশ্রণের ভেতরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে এবং ৪৮-৭২ ঘন্টার মধ্যে স্তুপের তাপমাত্রা ৬০০-৭০০ সে. তাপমাত্রায় পৌঁছায়। ঐ পরিমাণ তাপমাত্রা অনুভুত হলে স্তুপ ভেঙ্গে মিশ্রণ ওলট-পালট করে পুনরায় স্তুপ করে রাখতে হবে। স্তুপে বেশী পরিমাণ তাপ অনুভুত হলে খৈলের সম পরিমাণ পচা গোবর বা হাঁস-মুরগির বিষ্ঠা পুনরায় মিশিয়ে দিতে হবে। স্তুপের এ অবস্থায় এ্যামোনিয়ার মত গন্ধ বের হবে। স্তুপটি প্রতি ২ দিন পর পর ওলট-পালট করে পুনরায় স্তুপ করে রেখে দিতে হবে। এভাবে ওলট-পালট করতে থাকলে ১৪-১৬ দিনের মধ্যেই উক্ত মিশ্রসার জমিতে প্রয়োগ করার উপযোগী হয়। সার উপযোগী হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো – এ সময় কোন রকম গরম বা গন্ধ থাকবে না এবং কলো বাদামী বর্ণ ধারণ করবে এবং ঝুরঝুরে হবে।

সাবধানতা 

মিশ্রণটি উচু ও ছায়াযুক্ত স্থানে করতে হবে। স্তুপের নিচে পলিথিন শিট দিতে হবে।

পুষ্টি উপাদান

কুইক কম্পোস্টে  ২.৫৬% নাইট্রোজেন, ০.৯৮% ফসফরাস, ০.৭৫% পটাশিয়াম পাওয়া যায়। তাছাড়া পরিমিত মাত্রায় ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং অন্যান্য গৌন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়।

প্রয়োগমাত্রা

জমির উর্বরতা ও ফসলের উপর জমিতে কুইক কম্পোস্ট প্রয়োগের মাত্রা নির্ভর করে। সাধারণভাবে সবজি ফসলের জন্য প্রতি শতকে ৬ থেকে ১০ কেজি পরিমাণ প্রয়োগ করা যায়। এক্ষেত্রে জমি শেষ চাষের সময় শতাংশ প্রতি ৬ কেজি এবং পরবর্তীতে ২ বারে রিং করে ৪ কেজি হারে নালা করে দিতে হবে। ধানের জমিতেও কুইক কম্পোস্ট দেয়া যেতে পারে। ধানের কুশি স্তরে শতাংশ প্রতি ৪ কেজি হারে ছিটিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সংরক্ষণ 

এই জৈব সার ছাঁয়ায় এমনভাবে শুকাতে হবে যাতে হাতের মুঠোয় নিয়ে চাপ দিলে হাতে কোন রস না দেখা যায়। এ অবস্থায় ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য চটের/পাটের বস্তায় বা মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়।

ফসল উৎপাদনের প্রধান মাধ্যম মাটি। জৈব পদার্থ মাটির প্রাণ। কুইক কম্পোস্ট ব্যবহার করে মাটির জৈব উর্বরতা রক্ষা করুন। কারণ জীবন ও সভ্যতার বিকাশে মাটির ভূমিকা অপরিসীম।

 

- Advertisement -

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.