- Advertisement -

আমন ধানের প্রস্তুতি: গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

আমন ধানের প্রস্তুতি: গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

440

- Advertisement -

আমন ধানের প্রস্তুতি: গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

ধান আমাদের প্রধান শস্য। আমাদের দেশে -আউশ, আমন ও বোরো এই তিনটি মৌসুমে ধান আবাদ করা হয়। বাংলাদেশে (তথা সিলেটে) আমন মৌসুমে ধান সবচেয়ে বেশি পরিমান এলাকায় আবাদ করা হয় এবং উৎপাদনও বেশি হয়। তাই আমন ধানের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হয়।  আষাঢ় ও শ্রাবন মাসে আমন ধানের বীজতলায় বীজ বপন করতে হয়। এ সময়েই আমন ধান আবাদের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমন ধানের প্রস্তুতি নিতে, আপনাকে কতগুলো বিষয়ের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।

১. প্রথমেই জাত নির্বাচন করতে হবে। জাত নির্বাচনে মৌসুম, জমির অবস্থান, জমির উর্বরতা ও চাহিদা /বাজার দর বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হয়। আগাম জাতের মধ্যে রয়েছে ব্রি ধান৩২, ব্রি ধান৩৩, ব্রি ধান৩৯, ব্রি ধান৪৯ এবং বিনা ৭। অধিক ফলনশীল মাঝারি থেকে মোটা চালের জন্য বিআর১০, বিআর১১, ব্রি ধান৩০, ব্রি ধান৩১ চাষ করা যায়। সুগন্ধি চালের জন্য ব্রি ধান৩৪, ব্রি ধান৩৭, ব্রি ধান৩৮ চাষ করা যায়। বন্যার পানি বা জলমগ্নতা সহনশীল জাত ব্রি ধান৫১, ব্রি ধান৫২ চাষ করা যায়। তবে সিলেট এলাকার জন্য ব্রি ধান৪৯ এবং বিআর১১ খুবই উপযোগী।

২.  জাত নির্বাচনের পাশাপাশি ভালো বীজ যেমন বিজাত মুক্ত, রোগ ও পোকামাকড়মুক্ত, পরিপক্ক ও পুষ্ট এবং কমপক্ষে ৮০% অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা সম্পন্ন বীজ সংগ্রহ করতে হবে। বীজ সংগ্রহের জন্য বিএডিসি বা কৃষক পর্যায়ের সংরক্ষণকৃত বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

৩. বীজ সংগ্রহ করার পর বীজ বাছাই করে নিতে হবে। বীজ বাছাই আপনি তিন পদ্ধতিতে করতে পারেন। কুলা দিয়ে ঝেড়ে বা বাতাসে উড়িয়ে, হাতে বীজ বাছাই করে এবং ভাসমান পদ্ধতিতে। ভাসমান পদ্ধতিতে বীজ বাছাই করার জন্য, প্রথমে ১০ লিটার পরিষ্কার পানিতে প্রায় ৩৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার মিশাতে হবে। তারপর ১০ কেজি বীজ পানিতে ছেড়ে দিয়ে হাতে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করতে হবে। পুষ্ট বীজ গুলো ডুবে যাবে এবং অপুস্ট ও চিটাগুলো ভেসে উঠবে। হাত বা চালুনি দিয়ে ভাসমান বীজগুলো তুলে নিয়ে পরিষ্কার পানিতে ৩-৪ বার ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

৪. বাছাইকৃত বীজ থেকে অল্প পরিমান নিয়ে বীজের অঙ্কুরোদগম পরীক্ষা করে নিবেন। মনে রাখবেন অঙ্কুরিত বীজ শতকরা ৮০ ভাগের উপরে হতে হবে। তবেই একে আমরা ভাল বীজ বলব।

৫. বাড়ির কাছাকাছি উর্বর এটেল দো-আশঁ মাটি, পর্যাপ্ত আলো বাতাসযুক্ত স্থান, সেচ ও নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন জায়গায় বীজতলা তৈরি করতে হবে। বীজতলাটি অবশ্যই আদর্শ বীজতলা হতে হবে।

৬. পরিমানমত বীজ ছত্রাকনাশক কার্বেন্ডাজিম (ব্যাভিস্টিন) বা কালো জাম পাতার রস দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। তারপর বীজ পানিতে ভিজিয়ে ভালোভাবে জাগ দিতে হবে। জাগ দেওয়ার জন্য সময় লাগবে কমপক্ষে ৪৮ ঘন্টা।

৭.  প্রতি শতাংশ বীজতলায় ২ থেকে ৩ কেজি অংকুরিত বীজ সুষমভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। যা দ্বারা ২০-২৫ শতাংশ জমিতে রোপন করা যায়। আষাঢ় মাসই বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। তবে মনে রাখতে হবে, রোপা আমন ধান ভাদ্র মাসের পর রোপন করা যাবে না।

৮.  এ পর্যায়ে আপনার মনে রাখতে হবে, প্রতিবেশী কৃষকদের সাথে আলোচনা করে, একসাথে বীজতলায় বীজ ছিটালে, একসাথে রোপন করলে, এক মাঠের সকলের ধান একই সাথে পাকবে এবং ফসল সংগ্রহ করা যাবে। একে আমরা সমকালীন চাষাবাদ বলি। এর ফলে ফসলের পোকামাকড় ও বিভিন্ন রোগ বালাই সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

মূল জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে মাঝারি থেকে উর্বর জমি উত্তম। ছায়ামুক্ত, মোটামুটি সমতল, সেচ সুবিধাযুক্ত এবং বন্যামুক্ত হওয়া উচিত। কিছুদিন আগেই আপনি হয়ত বোরো ধান ঘরে তুলেছেন। জমিতে ধানের খড় কুটো বা আগাছা রয়েছে তাই আজই আপনি আপনার জমি একটি চাষ দিয়ে মই দিয়ে দেন। তাহলে ধানের খড়কুটোগুলো পচে গিয়ে সার হয়ে হবে এবং আগাছাগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। মাটিতে ভালভাবে বাতাস চলাচল করতে পারবে এবং উন্মুক্ত রোদে অনেক রোগ জীবানু ধ্বংস হয়ে যাবে।
১. মূল জমি তৈরির সময় পরিমিত পরিমাণে সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। এজন্য মাটি পরীক্ষা করে বা অনলাইনের মাধ্যমে অনুমোদিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত এক বিঘা  জমিতে ২৪ কেজি ইউরিয়া, ৮ কেজি টিএসপি, ১০ কেজি এমওপি, ৬ কেজি জিপসাম সার দিতে হবে (স্থান ও মাটিভেদে ভিন্নতা হতে পারে )।

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমন ধানের উৎপাদন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাঠ পর্যায়ে আমন ধানের সর্ব্বোচ্চ ফলন উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতির সহায়ক হিসেবে জাত নির্বাচন, ভালো বীজ সংগ্রহ, বীজ বাছাই, বীজ শোধন ও জাগ দেওয়ার সাথে সাথে আদর্শ বীজতলা তৈরি করা একান্ত দরকার। পাশাপাশি মূল জমি তৈরির ব্যবস্থা হাতে নেওয়া এখনই দরকার।

……

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.