- Advertisement -
বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব : বৃক্ষের চারা রোপণের কৌশল ও ব্যবস্থাপনা
যদি তুমি জানো আগামীকাল কিয়ামত হবে তবুও আজ একটি গাছের চারা রোপণ কর। কেউ যদি একটি ফল গাছ রোপণ করে এবং সেই গাছের ফল পাখি কিংবা মানুষ খায় এমনকি চুরি করেও খায় তবুও ঐ গাছের মালিক সদকার সওয়াব পায়। কেউ বৃক্ষরোপণ করে মারা গেলে তিনি মৃত্যুর পরও সওয়াব পেতে থাকেন। পবিত্র হাদিসের অমূল্য বাণীগুলো থেকে বুঝতেই পারছি বৃক্ষরোপণ করা কত বড় মহৎ ও সওয়াবের কাজ। নির্মল পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষের অবদান অপরিসীম। বৃক্ষহীন পরিবেশ মস্তকবিহীন দেহের সমান। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশে শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। পরিবেশ বলতে আমাদের আশে পাশে দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত বস্তু, যেমন নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, বায়ু, আলো, শব্দ, এসবের সমন্বিত প্রভাব যা মানুষের এবং সমস্ত জীব জগতের জীবন যাত্রাকে প্রভাবিত করে। কথায় আছে যেই দেশে নাই তরু, সেই দেশটা মরু।
বৃক্ষ আমাদের যেভাবে সহযোগিতা করে
গ্রীন হাউস প্রভাবকে প্রশমিত করে, মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে মাটির উর্বরতা বাড়ায়, খাদ্যের যোগান দেয়, বিশুদ্ধ বাতাস দেয়, দূষিত বাতাস শোষন করে ও এর বিষাক্ততা থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে, ঔষধের উপাদান সরবরাহ করে, জ্বালানি, খুটি ও গো খাদ্যের যোগান দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রশমিত করে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়ায়, আসবাব পত্রের জন্য কাঠ সরবরাহ করে, মানুষের আপদকালে বীমা তুল্য কাজ করে, লবনাক্ততা হ্রাস করে। তাছাড়াও গাছ অক্সিজেন তৈরি করে যা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন; বাতাসের অতিরিক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ নির্মল রাখে; মাটি পরিস্কার অর্থাৎ মাটির বিষাক্ত পদার্থ ও মাটির অন্যান্য ক্ষতিকার পদার্থ শুষে নিয়ে মাটিকে পরিস্কার রাখে; বাতাস পরিস্কার রাখে, বাতাসের ধূলিকণা ধরে রাখে, তাপ কমায় এবং বায়ু দূষনকারী পদার্থ যেমন- কার্বন-মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, শোষণ করে; ছায়া দেয় এবং আবহাওয়া ঠান্ডা রাখে; মাটির ক্ষয় রোধ করে। গাছের শিকর মাটিকে বেধে রাখে এবং গাছের পাতা বাতাসের গতি ও বৃষ্টির গতিকে দমিয়ে রাখে যা মাটির ক্ষয়রোধে সহায়াতা করে; যখন আবাসন গৃহে সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হয় তখন তাঁর মূল্য অনেক বেড়ে যায়। তাই গাছ আবাসন সম্পদের মূল্য বাড়ায়; মাটির মধ্যে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে; মাটির অভ্যন্তরে পানির উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে; প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুম-লে যে পনি ছাড়ে দেয় তাতে পরিবেশ শীতল থাকে, মেঘ ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়; আমাদের বন্যা, আকস্মিক বন্যা, খরা, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা করে।
পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। আমাদের রয়েছে সরকারী নিয়ন্ত্রণাধীন মাত্র ১০ ভাগ বনভূমি এবং ৭ ভাগ গ্রামেগঞ্জে রোপিত বা সৃজিত বনভূমি। পর্যাপ্ত বনভুমি না থাকায় আমরা যে সমস্যা গুলোর মধ্যে রয়েছি বা সম্মুখীন তা- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উত্তরাঞ্চল মরুময় হয়ে যাচ্ছে। কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, বাতাসে জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুম-লে ওজন স্তরে ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ক্ষতিকর অতি বেগুনী রশ্মি পৃথিবীতে চলে আসছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে মেরু অঞ্চল, এন্টার্টিকা মহাদেশের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে মরুময়তা, অনাবৃষ্টি (রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চল), অসময়ে বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, প্লাবন, বিলম্ব বৃষ্টি হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী ০২ দশকের মধ্যে সারা বিশ্বের ৬০০ মিলিয়ন মানুষ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বর্তমানে বার্ষিক ক্ষতির পরিমান আনুমানিক ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০৩০ সাল নাগাদ হবে ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ দেশ হবে বাংলাদেশ।
বৃক্ষনিধনের কুফল
ক্রমাগত বৃক্ষ নিধনের ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ আজ বিলুপ্ত প্রায়। বাংলার হাজারও প্রজাতির পশুপাখি ও জলজ প্রাণি হারিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ০৫ হাজার প্রজাতির গাছের মধ্যে ১০৬ টির অস্তিত্ব প্রায় বিলুপ্ত। ৬৩২ টি প্রজাতির পাখির মধ্যে ১২ টি প্রজাতি ইতোমধ্যে বিলুপ্ত, ৩০ টি প্রজাতি বিলুপ্তের পথে। ১১০ টি পশু প্রজাতির ৪০ টির অস্তিত্ব নেই। ৭৮০ টি প্রজাতির মাছের মধ্যে ৫৪ টির অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, ২০২০ সালের মধ্যে কৃষি উৎপাদন ৩০ ভাগ কমে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ার ২২ শতাংশ কৃষি জমি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
বৃক্ষের আরোও কিছু গুণাগুণ
একটি গাছ ০১ বছরে আমাদেরকে যা দেয় তা হলো ১০ টি এয়ারকন্ডিশনার সমপরিমান শীততাপ তৈরি করে, ৭৫০ গ্যালন বৃষ্টির পানি শোষন করে এবং ৬০ পাউন্ডের বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস বাতাস থেকে শুষে নেয়। ০১ গ্রাম পানি বাস্পীভবনে ৫৮০ ক্যালরী সৌর শক্তি ব্যয় হয়। ০১ টি বড় গাছ দিনে ১০০ গ্যালন পানি বাতাসে ছেড়ে দেয়। ০১ হেক্টর সবুজ ভুমি থেকে উদ্ভিদ প্রতিদিন গড়ে ৯০০ কেজি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহন করে এবং ৬৫০ কেজি অক্সিজেন দান করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকালে। ০১ টি মাঝারী আকৃতির আম গাছ ৪০ বছরে ১৪ লাখ টাকা মূল্যের অক্সিজেন তৈরি করে। ০৫ হেক্টর পরিমান বনভূমি থাকলে ৩-৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা হ্রাস হয়, ভুমিক্ষয় রোধ এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ায়। বৃক্ষরাজি ৮৫-৯০% শব্দ শোষণ করে, শব্দ দূষণ থেকে আমাদের রক্ষা করে। এক লাখ ইট পোড়াতে ২৫০০ মন জ্বালানি কাঠ দরকার হয়। আমাদের দেশে প্রতি বছর রান্নার জন্য প্রায় ১০৭ কোটি মন জ্বালানি কাঠ দরকার হয়।
এক জরিপে দেখা যায়, ফিনল্যান্ডে ৭৪%, মায়ানমারে ৬৪%, জাপানে ৬৩%, সুইডেনে ৫৫%,কানাডাতে ৪৫%, যুক্তরাষ্টে ৩৪% এবং ভারতে ২০%। আর বাংলাদেশে মাত্র ০৯% মতান্তরে ১৭% বনায়ন আছে। অথচ কমপক্ষে ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন। একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০ গ্রাম সবজী এবং ১১৫ গ্রাম ফল খাওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশে আমরা মাথা পিছু ৪০-৪৫ গ্রাম করে ফল পেয়ে থাকি। সাধারণত মানুষের মেধা বিকাশের শতকরা ৪০ ভাগ হয়ে থাকে মাতৃগর্ভে এবং অবশিষ্ট ৬০ ভাগ বিকাশ হয়ে থাকে জন্মের ০৫ বছরের মধ্যে। ভিটামিন-এ এর অভাবে প্রতি বছর প্রায় ত্রিশ-চল্লিশ হাজার শিশু রাতকানা রোগে অন্ধত্বের স্বীকার হয়। অথচ পুষ্টি যোগান এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ফলগাছের রয়েছে ব্যাপক অবদান।
ইতিহাসের দিকে তাকালে লক্ষ করা যায়, গাছ লাগিয়েছেন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা:), সম্রাট আকবর তৈরি করেছেন আম্রকানন যা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আজও দন্ডায়মান, সম্রাট শাহজাহান তৈরি করেছেন লাহোরের সালিমারবাগ, ব্যবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান এখনও জলন্ত দৃষ্টান্ত। তাছাড়া প্রচলিত হয়ে আছে, কোন ভালো উদ্যোগ বা কাজ শুরু করলে তার উদ্বোধন করা হয় গাছ লাগিয়ে। এক সময়ের ঘোড়া দৌড়ের জুয়ায় আড্ডা ছিল ঐতিহাসিক রেসর্কোস ময়দান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি নারিকেল গাছের চারা রোপণ করে রেসর্কোস ময়দানের নতুন নাম দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ নং ১৮ ক। মোতাবেক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা বিধান করা হয়েছে।
বৃক্ষের চারা রোপণের কৌশল ও ব্যবস্থাপনা
শুরুতেই আদর্শ চারা নির্বাচন করতে হবে। আদর্শ চারার বৈশিষ্ট্য হলো কান্ড মোটা, খাটো ও মূলের বৃদ্ধি সুষম হতে হবে। তাছাড়া সঠিক বয়সের চারা ও রোগমুক্ত ও সুস্থ সবল চারা সংগ্রহ করতে হবে। বিশ্বস্ত সরকারি কিংবা বেসরকারি নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহ করতে হবে।
চারা রোপণের সময়
বর্ষাকাল চারা রোপণের উৎকৃষ্ট সময়। চারা রোপণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে সাধারণত সারাবছরই চারা লাগানো যায়। তবে বর্ষার আগে অর্থ্যাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাস এবং বর্ষার পরে সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে চারা রোপণের আদর্শ সময়। যে কোন গাছের চারা রোপণ করার সর্বোত্তম সময় দিনের শেষভাগে অর্থ্যা পড়ন্ত বিকেল বেলায়। বর্ষার শুরুতে বা প্রথম বৃষ্টির পরপরই চারা লাগানো উচিত হবে না। কারণ প্রথম কয়েকদিন বৃষ্টির পরপরই মাটি থেকে গরম গ্যাসীয় পদার্থ বের হয় যা চারা গাছের জন্য খুবই ক্ষতিকর এমনকি চারা মারা যেতে পারে।
চারা রোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কৌশল
চারা রোপণের জন্য শুরুতেই সঠিক জায়গা নির্বাচন করা উচিত। যেখানে সরাসরি সূর্যের পড়ে, বন্যামুক্ত উঁচু জায়গা নির্বাচন করে জায়গাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। নির্দিষ্ট দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে। পরবর্তীতে চারা রোপণের জন্য গর্ত খনন করতে হবে। বনজ, ফলদ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের ক্ষেত্রে দূরত্ব ও গর্ত তৈরি করতে ভিন্নতা রয়েছে। গর্ত খনন করার সময় নিচের মাটি একদিকে এবং উপরের মাটি অন্যদিকে রাখতে হবে। গর্তের উপরের মাটির সাথে চারা গাছের প্রকার ও জাতভেদে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার যথা ইউরিয়া সার, টিএসপি সার, এমওপি সার, জিংক সার ও বোরণ সার ব্যবহার করতে হবে। তবে অবশ্যই পঁচা গোবর বা কম্পোস্ট সার মাটির সাথে খুব ভালোভাবে মিশিয়ে ব্যবহার করতেই হবে। সার মিশানোর পরে ১০-১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হয়। মাটি শুকনো হলে পানি দিয়ে হালক ভিজিয়ে নিলে ভালো হবে। গর্তে মাটি ভালোভাবে বসিয়ে মাঝখানে কিছু উঁচু করে নিতে হবে।
নার্সারি থেকে চারা সংগ্রহের পরপরই ছায়াযুক্ত জায়গায় কয়েকদিন শুয়ে রাখতে হবে। এই অবস্থাকে চারা গাছের হার্ডেনিং বা সহিষ্ণুকরণ/শক্ত করণ বলা হয়। হার্ডেনিং এর ফলে চারা গাছের মরে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশেই কমে যায়। এ অবস্থায় মাঝে মাঝে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, চারার গোড়ায় লাগানো মাটির চাকাটি যেন কোনভাবেই ভেঙ্গে না যায়। চারা লাগানোর আগে রোগাক্রান্ত, জীর্ণ পাতা ও ডালপালা ছেঁটে দিতে হবে। তারপর সতেজ, সবল, রোগমুক্ত, সোজা এবং কম শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট চারা অর্থ্যাৎ আদর্শ চারা নির্বাচন করতে হবে চারায় সংযুক্ত পলিব্যাগ এমনভাবে অপসারণ করতে হবে যাতে চারার গোড়ার মাটির চাকা ভেঙে গুড়িগুড়ি না হয়ে যায়।
তারপর চারার গোড়ার মাটির চাকাসহ চারাটি গর্তে আস্তে আস্তে আলতো করে অত্যন্ত যত্ন সহকারে বসিয়ে দিতে হবে। চারার গোড়ার চারপাশে কোঁকড়ানো বা আঁকাবাঁকা শিকড় কেটে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, বীজতলায় চারাটির যতটুকু অংশ মাটির নিচে ছিল রোপণের সময় ঠিক ততটুকু অংশ মাটির নিচে রাখতে হবে। তারপর চারার চারপাশে ফাঁকা জায়গায় প্রথমে উপরের উর্বর মাটি এবং পরে নিচের মাটি দিয়ে ভালোভাবে পূরণ করে দিতে হবে। চারপাশের মাটি ভালোভাবে চেপে ঠেসে দিতে হবে যাতে কোনো ফাঁকা জায়গা না থাকে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সদ্য লাগানো চারায় খুঁিট দেওয়া। চারা যেন হেলে না পড়ে সে জন্য শক্ত খুঁটি মাটিতে পুঁতে চারার সাথে এমনভাবে বেঁধে দিতে হবে যেন চারা খুঁিটর সাথে লেপ্টে লেগে না থাকে। চারা রোপণের পরপরই চারার গোড়ায় ও পাতায় পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। গবাদি পশু যথা ছাগল, গরু, ভেড়া এসবের হাত থেকে চারাকে রক্ষা করার জন্য খাঁচা দিতে হবে। নতুন কুঁড়ি বা পাতা বের না হওয়া পর্যন্ত সার প্রয়োগ করা ঠিক হবে না। ফলদ গাছের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি আশানুরুপ না হওয়া পর্যন্ত ফুল ফল ভেঙ্গে দিতে হবে।
চারা গাছ লাগানোর পর কোনো কারণে মারা গেলে দ্রুত নতুন চারা ঐ গর্তে রোপণ করতে হবে। রোপণকৃত চারায় পোকা বা রোগে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে বালাই দমনের ব্যবস্থা নিতে হবে। গাছের আকার আকৃতি সুন্দর ও ফলন বৃদ্ধি করার জন্য অঙ্গছাঁটাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সিকেচার দিয়ে নিয়মিতভাবে রোপণের দুবছরের মধ্যে পার্শ্ব শাখা, চিকন, নরম ও রোগা শাখা কেটে দিতে হবে। সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে চারার বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রতি বছর সারের পরিমাণ ১০ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে। গাছে বছরে অন্তত দুইবার সার দিতে হয়। একবার বর্ষার আগে এবং আরেকবার বর্ষার পরে। সুষম সার অবশ্যই জৈব এবং রাসায়নিক সারের সমন্বেেয় দিতে হবে। বড় গাছের গোড়া থেকে কমপক্ষে ০১-০২ মিটার দূর পর্যন্ত (গোড়ার কাছাকাছি অংশ যেন অক্ষত থাকে) মাটি কোঁদাল দিয়ে ঝুরঝুরি করে সার ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া উচিত। সার দেয়ার পর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
সাম্প্রতিক তথ্য মতে, বিশ্বে প্রতি মিনিটে গড়ে ২১ হেক্টর বনভুমি উজাড় হচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ১৪.৬ মিলিয়ন হেক্টর বনাঞ্চল ধ্বংস করছি যা আয়তনে বাংলাদেশের প্রায় সমান। তাই প্রত্যেকেই কমপক্ষে একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি গাছ লাগিয়ে সারা দেশে ৪২ কোটি বৃক্ষরোপন অনায়াসে সম্ভব। প্রাকতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে বৃক্ষ ও বনের প্রতি আমাদের মমত্ববোধ বাড়াতে হবে। কেননা বৃক্ষই আমাদের জীবন এবং আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য স্রষ্ঠার অপূর্ব নিয়ামক। ‘‘প্রানে যদি বাচতে চান, বেশি করে গাছ লাগান”। নিয়মিত গাছের যত্ন নিন; গাছকে ভাল রাখুন, আপনি ভাল থাকুন।
লেখক: কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ…
- Advertisement -