- Advertisement -

পতিত জমিতে ফলবাগান সৃজন ও পরিচর্যা

পতিত জমিতে ফলবাগান সৃজন ও পরিচর্যা

790

- Advertisement -

পতিত জমিতে ফলবাগান সৃজন ও পরিচর্যা

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

বার মাসে বার ফল, না খেলে যায় রসাতল। স্বাস্থ্যরক্ষার উত্তম উপাদান হলে ফল। ফলের পুষ্টিমান বিবেচনায় ৬ মাসের শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক প্রত্যেকের জন্য প্রতি দিন একটি করে ফল খাওয়া প্রয়োজন। ‘প্রতিদিন এক পেঁপে খাও-বাড়ি থেকে বদ্যি তাড়াও’। ফলের মধ্যে ভিটামিন ও খনিজ লবণ বেশি থাকে। মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ও খনিজ লবণ বেশি অবদান রাখে। আর ফল তাজা অবস্থায় খাওয়া হয় বলে এর কোন পুষ্টি উপাদন নষ্ট হয় না। এখানেই ফলের শ্রেষ্ঠত্ব। আজকের একটি ফলের চারা আগামী দিনের ‘জীবন বীমা’ হিসেবে কাজ করবে।

ফলগাছ চাষে অনুসরণীয় কৌশল
জমি: ফলগাছ বহুবর্ষজীবি বিধায় জায়গা নির্বাচন সঠিকভাবে করতে হবে। উঁচু, রোদ, সুনিকাশযুক্ত এবং পানির উৎসের কাছাকাছি হতে হবে।
চারা বা কলম: ভালো জাতের সুস্থ, সবল, রোগমুক্ত চারা বা কলম নির্বাচন করতে হবে বা বিশ্বস্ত নার্সারি হতে সংগ্রহ করতে হবে।
গর্ত তৈরি: জাতভেদে গর্তের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, গভীরতা ভিন্ন হবে। জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। গর্তের উপরের মাটির সাথে সার মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হয়। মাটি শুকনো হলে পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিলে ভালো হবে।
চারা রোপণ: সঠিক পদ্ধতিতে ও সঠিক দূরত্বে চারা রোপণ করতে হবে। গর্তের মাঝখানে চারা সোজাভাবে লাগাতে হবে ও চারদিকে মাটি চেপে দিতে হবে। চারা লাগানোর পর গোড়ায় ও পাতায় পানি দিতে হবে। কয়েকদিন পর্যন্ত পরপর সেচ দিলে ভাল হয়।
খুঁটি দেয়া: চারা রোপণের পরপরই খুঁটি দিতে হবে। রোপণকৃত চারাটি শক্ত একটি খুঁটির সাথে সামান্য ঢিলে করে বেধে দিতে হবে।
বেড়া দেয়া: চারা রোপণের পরপরই বেড়া দিতে হবে। অন্তত দুবছর বা মানুষের উচ্চতা সমান না হওয়া পর্যন্ত চারা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
আগাছা পরিষ্কার: আগাছা ফলগাছের ব্যাপক ক্ষতি করে। বছরে অন্তত ৩-৪ বার আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। আগাছা পরিষ্কারের পরপরই লতাপাতা, খড়কুটো দিয়ে ফল গাছের গোড়া ভালোভবে ডেকে দিতে হবে। এতে গাছের গোড়ার রস সংরক্ষণ ও পচে গিয়ে জৈব সারের কাজ হবে।
অন্যান্য পরিচর্যা: চারা কোনো কারণে মরে গেলে নতুন চারা রোপণ করতে হবে। রোপণকৃত চারা পোকা বা রোগে আক্রান্ত হলে সাথে সাথে বালাইদমনের ব্যবস্থা নিতে হবে।
সার ও পানি ব্যবস্থাপনা: চারা রোপণের আগে গর্তে সার প্রয়োগ করতে হবে। চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে প্রতি বছর সারের পরিমাণ ১০ শতাংশ হারে বাড়াতে হবে। ফলন্ত গাছে বছরে অন্তত দুবার সার দিতে হবে। একবার বর্ষার আগে এবং অন্যবার বর্ষার পরে। সুষমসার অবশ্যই জৈব এবং অজৈব সারের সমন্বয়ে দিতে হবে। বড় গাছের গোড়া থেকে কমপক্ষে ১ মিটার দুরে সার দেয়া উচিত। সার দেয়ার পর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।
অঙ্গছাটাই: অঙ্গছাটাই ফলগাছ ব্যবস্থাপনার অন্যতম কাজ। এতে গাছের আকার স্ন্দুর, ফলনও বেশি হয়। সিকেচার দিয়ে নিয়মিতভাবে রোপণের দুবছরের মধ্যে পার্শ্ব শাখা, চিকন, নরম ও রোগা শাখা কেটে দিতে হবে।
রোগবালাই দমন: রোগবালাইয়ের দ্বারা ফলগাছের বৃদ্ধি ব্যাহত, ফল ফুল ধারণে ব্যাঘাত এবং ফলনে অনাকাঙ্খিত প্রভাব পরে। তাই পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত চাষাবাদ করতে হবে। তাছাড়া সুস্থ, সবল চারা রোপণ, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, আগাছা পরিষ্কার ও অন্যান্য পরিচর্যা, সেচ বা নিকাশ, শীতের পর বাগান চাষ দেয়া, অঙ্গছাটাই করা ও অনুমোদিত বালাইনাশক সঠিক পরিমাণে, সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
বাড়ির আঙ্গিনা, পতিত জমি খালি না রেখে আজই পরিকল্পিতভাবে ফলগাছ রোপণ করুন।

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.