- Advertisement -

পতিত জমিতে আদা ও হলুদের চাষ

পতিত জমিতে চাষ

1,156

- Advertisement -

পতিত জমিতে আদা ও হলুদের চাষ

কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ

আদা ও হলুদ জনপ্রিয় মসলা জাতীয় ফসল। মশলা ছাড়াও আচার অনুষ্ঠানে ও ওষুধ হিসেবে আদা হলুদের ব্যবহার খুবই ব্যাপক। এসব ফসল চাষ করে একর প্রতি ১.৫ থেকে ২.০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বাড়ির আঙ্গিনায়, পতিত জমিতে সহজেই আদা ও হলুদ চাষ করা যায়।

কেন আদা ও হলুদ ফসল চাষ করবেন?
১. ছায়াযুক্ত জায়গায় আদা হলুদ জন্মায়। বাড়ির আঙ্গিনায়, অন্য গাছের ছায়ায়, পতিত জমিতে, পাহাড়ের ঢালে এবং অন্য ফসলের অনুপযোগী স্থানে চাষ করা যায়।
২. কৃষি বনায়ন ও বিভিন্ন ফসলের সাথে আন্তঃ ফসল হিসেবে চাষ করা যায়।
৩. অন্য ফসলের (যেমন-ধান) মতো ভালো জমির প্রয়োজন হয় না।
৪. এ ফসলে সার, সেচ ও পরিচর্যা কম লাগে।
৫.এসব ফসলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। তাই রোগবালাই কম হয়।

আদা ও হলুদের পুষ্টি ও ঔষধি গুণের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার
১. প্রচুর পরিমান আমিষ, ভিটামিন এ বা ক্যারোটিন, খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম, লৌহ পাওয়া যায়।
২.খাদ্য শিল্পে, পানীয় প্রস্তুতিতে, আচার, ওষুধ, প্রসাধনী ও সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহার হয়।
৩. মুখের রুচি বৃদ্ধি, বদ হজম, সর্দি, কাশি, আমাশয়, জন্ডিস, পেট ফাঁপায় খুব উপকারী।

আদা চাষের জন্য উন্নত জাত বারি আদা-১, স্থানীয় জাত হিসেবে রংপুরী, খুলনা, টেংগুরা এসব জাত চাষ করতে পারেন।

হলুদ চাষের জন্য উন্নত জাত বারি হলুদ-১ (ডিমলা), বারি হলুদ-২(সিন্দুরী), বারি হলুদ-৩ এবং বারি হলুদ-৪ জাতগুলো চাষাবাদ করতে পারেন।

পোকামাকড়ের মধ্যে হলুদের কান্ড ছেদক পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, থ্রিপস এসবের আক্রমণ হতে পারে। ছত্রাকজনিত কন্দ পচা রোগ আদায় হতে পারে। পোকামাকড় ও রোগ বালাই দমনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে।

মার্চ-এপ্রিল-মে মাস আদা ও হলুদের কন্দ রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়।

টিলা, পাহাড় ও বাড়ির আঙ্গিনায় অনাবাদি জমি রয়েছে। এসব অনাবাদি জমিতে আদা ও হলুদ আবাদের সুযোগ রয়েছে। ছায়াবেষ্টিত এসব জায়গায় উন্নত জাতের আদা ও হলুদ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আবাদের আওতায় আনা সম্ভব।

 

- Advertisement -

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.