- Advertisement -
আপদকালীন রোপা আমন ধানের চারা উৎপাদন পদ্ধতি
কৃষিবিদ মোহাইমিনুর রশিদ
বন্যার কারণে কোথায়ও কোথায়ও বীজতলায় রোপা আমনের চারা নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি কিছু কিছু জায়গায় বন্যার পানির কারণে রোপা আমনের বীজতলা তৈরি করা সম্ভব হয়না। অন্যদিকে দেরি হলে স্বল্প জীবনকাল এবং আলোক সংবেদনশীল আমন ধানের চারা না পাওয়া গেলে বিআর ২২, বিআর ২৩, ব্রি ধান ৪৬ এবং স্থানীয় জাত নাইজারশাইল, গাইঞ্জা, গড়িয়া, পরাঙ্গি, সাইট্যা, তুলশিমালা এসব জাত জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ কিংবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজতলা তৈরি করা যেতে পারে। বন্যা কবলিত এলাকায় স্বাভাবিক বীজতলা তৈরির উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কষ্টকর। সেক্ষেত্রে দুইটি পদ্ধতিতে রোপা আমনের চারা তৈরি করা যায়।
কলার ভেলায় ভাসমান বীজতলা: বন্যাকবলিত এলাকায় যদি বীজতলা করার মতো জায়গা না থাকে এবং বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর চারা তৈরির প্রয়োজনীয় সময় না থাকে তবে বন্যার পানি নদীর পানি, বিলের পানি, পুকুরের পানি, ডোবা বা খালের পানি ওপর কলাগাছের ভেলার ওপর হোগলার চাটাই দিয়ে সেখানে মাটির প্রলেপ দিয়ে তৈরি করে কিংবা বাঁশ এবং বাঁশের চাটাইয়ের মাচা অথবা কিংবা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি বেডের ওপর ২-৩ সেন্টিমিটার পরিমান পুকুরের তলার মাটির পাতলা কাদার প্রলেপ দিয়ে ভেজা বীজতলা তৈরি করা যায়। বন্যার পানিতে যেন ভেসে না যায় সেজন্য ভাসমান বীজতলা বেডকে দড়ির সাহায্যে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখতে হবে।
এরপর মাটির আস্তরণের ওপর অঙ্কুরিত বীজ ছিটিয়ে দিতে হবে। ভাসমান বীজতলার ক্ষেত্রে অন্য স্বাভাবিক বীজতলার মতোই বীজ হার প্রতি বর্গমিটারে ৮০ থেকে ১০০ গ্রাম হবে। এক্ষেত্রে এক বিঘা জমি রোপণের জন্য ৩৫ বর্গমিটার বা প্রায় ১ শতক ভাসমান বীজতলা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ দিনের চারা উঠিয়ে মাঠে রোপণ করা যেতে পারে। এবাবে তৈরি চারা অন্য সব স্বাভাবিক চারার মতোই রোপণ করতে হবে এবং পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা অন্য স্বাভাবিক বীজতলার চারার মতোই হবে। এভাবে উৎপাদিত চারা অন্য সব স্বাভাবিক চারার মতোই ফলন দেয়। পানিতে ভাসমান থাকার জন্য এ বীজতলায় সাধারণত সেচের দরকার হয় না, তবে মাঝে মধ্যে প্রয়োজনে ছিটিয়ে পানি দেয়া যেতে পারে।
দাপোগ বীজতলা: বাড়ির উঠান বা যে কোন শুকনো জায়গায় অথবা কাদাময় সমতল জমিতে পলিথিন, কাঠ অথবা কলাগাছের বাকল দিয়ে তৈরি চৌকানা ঘরের মতো করে তার মধ্যে অঙ্কুরিত বীজ ছড়িয়ে দিতে হয়। এ বীজতলায় মাটি থেকে চারাগাছ কোনোরূপ খাদ্য বা পানি গ্রহণ করতে পাওে না বলে বীজতলায় প্রয়োজন মাফিক পানি ছিটিয়ে দিতে হবে। বীজতলায় প্রতি বর্গমিটারে সর্বোচ্চ ৩ কেজি অঙ্কুরিত বীজ দিতে হয়। এভাবে প্রস্তুতকৃত ২ থেকে ৩ বর্গমিটার দাপোগ বীজতলা থেকে উৎপাদিত চারা এক বিঘা জমি রোপণ করার জন্য যথেষ্ট। দাপোগ বীজতলার প্রস্থ প্রায় ১.৫ মিটার এবং দৈর্ঘ্য প্রয়োজনমতো নিতে হবে। এভাবে করা বীজতলা থেকে ১৪ থেকে ১৫ দিন বয়সের চারা জমিতে রোপণ করতে হবে। চারার বয়স বাড়ার সাথে সাথে চারার গুণগতমান নষ্ট হতে থাকে। চারার বয়স কম থাকে বলে অনেক সময চারার মৃত্যুহার কিছুটা বেশি থাকে। সেজন্য চারা রোপণের সময় প্রতি গোছায় ৪ থেকে ৫ টি চারা দিলে এ সমস্যা কাটিয়ে উঠা যায়। দাপোগের চারার উচ্চতা কম থাকে বলে জমিতে লাগানোর সময় যেন এমন পরিমান পানি রাখতে হবে যাতে করে চারা পানির নিচে ডুবে না যায় । এক্ষেত্রে রোপিত চারার সব পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনা অন্যসব চারার মতোই হবে। দাপোগ পদ্ধতিতে লাগানোর চারা পরবর্তীতে অন্যান্য স্বাভাবিক চারার মতোই ফলন দেয়।
এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষকভাইয়েরা বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে কাক্সিক্ষত ফলন পেয়ে লাভবান হতে পারবেন।
- Advertisement -
মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.